খামার স্থাপন পরিকল্পনা

খামার বলতে এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেখানে কৃত্রিমভাবে কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী পালন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য অর্জন করা হয়। সাধারণত গবাদি পশু এবং কিছু বাণিজ্যিক উদ্ভিদ এবং প্রাণী এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত এবং বাজারজাত করা হয়। সংজ্ঞা অনুসারে কৃষিকাজ হ’ল এমন একটি শিল্প, বিজ্ঞান বা অনুশীলন, যেখানে খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে প্রাণী এবং / অথবা ফসল উত্থাপন করা হয়। শিল্প হিসাবে কৃষিক্ষেত্রে কৃষকরা নিজেকে ঘিরে রাখে: যে লোকেরা কৃষিক্ষেত্রে কাজ করে।

খামার স্থাপন পরিকল্পনা

খামার স্থাপন পরিকল্পনা

যে কনো খামার স্থাপনের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া হোয়ে থাকে। তাই খামার স্থাপন পরিকল্পনা করার আগে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।পূর্ব প্রস্তুতির সময় গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলঃ-

প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞাতাঃ

যে কোন একটি ফার্ম বা খামার করতে হলে প্রথম প্রয়োজন দক্ষকর্মি আর দক্ষ হত হলে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞাতা ,তাই খামার তৈরী করতে হলে  যে বিষয়ে দক্ষ হতে হয় তা হলঃ-

  • যে পালন করবেন সেই বিষয়ে ধারণা।
  • খামার স্থাপন বিষয়ে নিজস্ব ধারনা রাখতে হবে।
  • খামার স্থাপনের দিড়ও আগ্রহ ,আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।
  • খামার পরিচালনার জন্য নিজস্ব দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস খুব জরুরী।
  • খামার সুন্দর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞাতা।

সম্পদের প্রাপ্যতাঃ

যে কোন ব্যাবসাকরতে হলে নিজস্ব কিছু সম্পদ ও অর্থ উপার্জেন মাধ্যম থাকাটাই হল সম্পদের প্রাপ্যতা আর খামার করতে হলে  এই বিষয়ে খিয়াল রাখা প্রয়োজন, নিম্নে সম্পদের প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হলঃ-

  • খামার স্থপনের জন্য নিজস্ব জমি থাকা প্রয়োজন ।
  • নিজস্ব মূলধন থাকতে হবে।
  • মূল্ধন প্রাপ্তির উৎস রাখতে হবে।
  • সঠিক সময় শ্রম ও সময় প্রদানের আশা থাকতে হবে।
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য দক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মী রাখতে হবে।

উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তাঃ

সকল উপকরণ যাতে সহজে পওয়া যায় সে বিষয়ে খিয়াল রাখতে হবে,নিম্নে সকল উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা গুলির তুলে ধরা হলঃ- 

  • সহজে বাচ্চা প্রাপ্তির সম্ভাবনা।
  • সহজে বাচ্চা প্রাপ্তির উৎস ।
  • সহজে বাচ্চা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ।
  • প্রয়োজনিয় দ্রব্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।
  • সরঞ্জাম প্রাপ্তির উৎস।
  • খাদ্য সংগ্রহের উৎস।
  • খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়াতা।
  • খাদ্যের নেয্য মূল্য।
  • সকল দ্রব্যের সঠিক মূল্যে ক্রয়

স্থানীয় লোকেদের চাহিদা পুরনঃ

আমাদের ব্যবসায় লক্ষ রাখতে হবে স্থানীয় লোকেদের ।সামাজিক আবস্থা বজায় রেখে স্থানীয় লোকেদের সাথে ব্যবসা করতে হবে , গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলঃ-

  • মাংসের জন্য স্থানীয় লোকেদের চাহিদা আগে পূরণ করতে হবে।
  • স্থানীয় ভাবে মাংসের গ্রহণযোগ্যতা।
  • স্থানীয় লোকেদের ক্রয়ক্ষমতার দিকে খিয়াল রাখা।
  • স্থানীয় লোকেদের পুষ্টি গ্রহনের প্রয়োজনীয়তা।
  • সামাজিক অবস্থা বজায়রাখা।
  • বিকল্প বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরী।
  • উৎপাদন ও বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যতা সৃষ্টি।

সুযোগ – সুবিধা তৈরীঃ

খামার করতে হলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরী করতে হয়।যতো বেশি সুযোগ সুবিধা তৈরী করা যায় ততো বেশি ব্যাবসার জন্য ভালো ,বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

  • পরামর্শ দাতা।
  • সুন্দর পরিবেশ তৈরী।
  • বর্জ্য অপসারণ ও বিকল্প ব্যবহার তৈরী করা।
  • সেনিটেশন ব্যবস্থা।
  • সুন্দর আবাসিক ব্যবস্থা তৈরী।
  • সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা।
  • পর্যাপ্ত বিদ্যুতিক ব্যবস্থা।

স্থান নির্বাচনঃ

খামারের জন্য সুন্দর স্থান নির্বাচন করা অতি জরুরী একটি বিষয়।কারন স্থানের উপর নির্ভর করে সুস্থতা ও বৃদ্ধির ।তাই স্থান নির্বাচন করতে হলে যে বিষয় খিয়াল রাখা জরুরী তা নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

  • উচু স্থান নির্বাচন করা উচিৎ কারণ বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা যাতে না হয়।
  • অ-কৃষি জমি নির্বাচন।
  • অন্যান্য খামার থেকে দূরে স্থান নির্বাচন করা।
  • লোকালয় থেকে সম্ভাব্য দূরে খামার তৈরী।
  • মিল কারখানা ধোয়া,শব্দ ,বর্জ্য ইত্যাদি দূষণমুক্ত পরিবেশ নির্বচন।

পরিকল্পনা প্রণয়নঃ

  • উল্লেখিত বিষয় সমূহ বারবার পর্য্যালোচনা করা।
  • নির্বাচিত স্থানে সভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ।
  • খামার স্থাপন কর্মসূচী প্রণয়ন।
  • পশুসম্পদ বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শকরণ।
  • ঋণ প্রদান সংস্থার প্রতিনিধি সাথে পরামর্শকরণ ।
  • খামার স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন।
  • খামারের বর্জ্য অপসারণ সুবিধা রাখাতে হবে যাতে সহজে ময়লা -আবর্জনা ফেলা যায়।
  • পরিবেশ দূষণ সম্ভাব্যতা নিবারণের বাবস্থা করতে হবে।

খামার স্থাপনের উদ্দেশ্যঃ

  • খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করা।
  • কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস তৈরী।
  • জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করা।
  • আর্থিক ভাবে সামাজিক পরিবর্তন করা ।

খামারের লক্ষ্যমাত্রাঃ

  •  উৎপাদনের সংখা বৃদ্ধি।
  •  উৎপাদনের পরিমান বৃদ্ধি।
  • খাদ্য সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি।
  • লোকবল ও কর্মচারির নিয়োগ ।
  • আয় – ব্যয়ের পরিমান নিখুদ হিসাব করা।

খামার পরিচালনা পদ্ধতিঃ

  • খামার পরিচালনার অবকাঠাম ঠিক রাখাতে হবে।
  • সঠিক জবাব দিহি করতে হবে।

খামার হিসাব সংরক্ষণঃ খামারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ঠিক রেখে সে অনুসারে যাবতিয় কাজ বা কর্মকান্ডের হিসাব ও তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

 

খামার পরিকল্পনা ,খামারের লক্ষ্যমাত্রা ,খামার পরিচালনা পদ্ধতি ,খামার স্থাপনের উদ্দেশ্য ,খামার পরিকল্পনা প্রণয়ন ,খামারের স্থান নির্বাচন ,খামারের সুযোগ – সুবিধা তৈরী ,খামারের স্থানীয় লোকেদের চাহিদা পুরন ,খামারের উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ,খামার তৈরিতে সম্পদের প্রাপ্যতা ,খামার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞাতা ,কৃষি কী ,

খামার তৈরিতে লক্ষ্যমাত্রা , পরিচালনা পদ্ধতি , স্থাপনের উদ্দেশ্য ,খামার তৈরির উদ্দেশ্য ,পরিকল্পনা প্রণয়ন ,খামার তৈরির পরিকল্পনা , স্থান নির্বাচন , সুযোগ – সুবিধা তৈরী , স্থানীয় লোকেদের চাহিদা পুরন , উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ,খামারের সম্পদের প্রাপ্যতা ,খামার প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞাতা ,প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞাতা ,

খামার পরিকল্পনা প্রণয়ন , গরুর খামার পরিকল্পনা , মুরগির খামার পরিকল্পনা , ছাগল খামার পরিকল্পনা , ছাগলের খামার পরিকল্পনা , টার্কি খামার পরিকল্পনা , হাঁসের খামার পরিকল্পনা ,  পোল্ট্রি খামার পরিকল্পনা , খামার ব্যবস্থাপনা , খামার করার নিয়ম ,

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.