আমাদের দেশে কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়-উন্নত জাতের গাভী চেনার উপায়

আমাদের দেশে কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় বা উন্নত জাতের গাভী কোনটা ? এক কথায় যদি উত্তর দিতে হলে, শাহিওয়াল ও হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান (Holstein-Friesian) জাতের গরু বেশি দুধ দেয়।

বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ উৎপাদনশীল গাভী পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ চট্টগ্রামের লাল গরু বা রেড চিটাগাং , পাবনা জেলার গরু ও ফরিদপুর জেলার গরু। তবে দুধ উতপাদনশীল গাভী নির্বাচনে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরী, সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো :

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়

কোন জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়

মাথার আকৃতি:- মাথা হালকা ও ছোট আকারের হবে। কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল হবে। অধিক খাদ্য গ্রহণে আগ্রহী হবে।

দৈহিক গঠন:- দেহের আকার বড় হবে, পেট থাকবে ঢিলাঢালা, পা শিথিল, চওড়া কপাল ও মাথা ছোট একটি উৎকৃষ্ট দুগ্ধবতী গাভীর বৈশিষ্ট্য। ভালো জাতের গাভীর শরীরের চামড়া থাকবে পাতলা, নরম ও আলগা থাকে। দুধেল গাভীর ত্বকে থাকে চাকচিক্য। বুক বেশ গভীর ও প্রশস্ত। সামনের ও পেছনের পা দুটির মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক থাকবে। পেছনের পা সামনের পায়ের চেয়ে বড় হয়। গাভীর মুখগহ্বর ও নাসিকা প্রশস্ত হবে। উৎকৃষ্ট গাভীর চোখ সবসময় উজ্জ্বল হবে। দেহ তেমন চর্বিবহুল হবে না। দুগ্ধবতী গাভীর শরীর সাধারণত অপ্রয়োজনীয় পেশিমুক্ত থাকে।

গোঁজ আকৃতির দেহ:- ভালো জাতের গাভীর পেছনের দিক সামনের দিক অপেক্ষা প্রশস্ত হবে। তাই উন্নত দুগ্ধবতী গাভীকে পেছনের দিক থেকে গোঁজকৃতি দেখায়। প্রশস্ত চওড়া পাছা ও পেছনের পা দুটির মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক উন্নত গাভীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পেছনের পা দুটির মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁক থাকলে ওলান বড় হওয়ার সুযোগ থাকে।

কোন জাতের গরু বেশি দুধ দেয়

ওলান:- ভালো গাভীর ওলান বেশ বড়, চওড়া, মেদহীন এবং কক্ষগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। ওলান সামনে ও পেছনে সমভাবে প্রসারিত থাকে। ওলানের পেছন দিক সুডৌল ও প্রশস্ত হয়। পাশ থেকে ওলানের তলদেশ সমতল দেখায়। দুগ্ধবতী গাভীর ওলান স্পঞ্জের ন্যায় নরম থাকে যা দুধ দোহনের পূর্বে বড় দেখায় এবং পরে সংকুচিত হয়ে ঝুলে থাকে। অধিক মাংসল ও চর্বিযুক্ত ওলান ভালো নয়। এ ধরনের ওলানে দুধ ধারনের জায়গা কম থাকে।

বাঁট:- তাছাড়া উৎকৃষ্ট গাভীর বাঁটগুলো প্রায় একই মাপের এবং সমান দূরত্বে থাকবে। বাঁটের আকার দোহন উপযোগী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

দুধের শিরা:- উত্তম দুগ্ধবতী গাভীর পেটের নিচে ওলানের সঙ্গে সংযুক্ত সুস্পষ্ট শাখা-প্রশাখাযুক্ত দুধের শিরা থাকে।

প্রকৃতি:- দুগ্ধবতী গাভী শান্ত, ধীরস্থির ও মাতৃভাবাপন্ন হয়। উন্নত দুগ্ধবতী গাভী সাধারণ ভীত প্রকৃতির হয়, দুধ দোহনকালে অস্থিরতা প্রকাশ করে না। এদের হাঁটাচলাও ধীর ও মন্থর প্রকৃতির হয়।

পাঁজর:- পাঁজরের হাঁড় সুস্পষ্ট অনুভব করা যাবে। হাঁড়ের গঠন সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

বয়স:- সাধারণত একটি গাভী প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত বাচ্চা ও দুধ উৎপাদন করে। সুতরাং গাভীর বয়স জানা আবশ্যক। তাছাড়া গাভীর প্রথম প্রসবে যেসব বিপদের সম্ভাবনা থাকে সেগুলো একবার প্রসবের পর দূর হয়ে যায়।

দুধ উতপাদনশীল গাভী নির্বাচন

দুধ উৎপাদন:- সাধারণত পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদনকারী গাভী উৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অনেক গাভী দুধ বেশি দিলেও দুধ পাতলা হয় এবং ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ কম থাকে। সুতরাং দুধে ফ্যাটের পরিমাণ যাচাই করে গাভীর উৎকৃষ্টতা বিচার করা প্রয়োজন। স্বাভাবিক ফ্যাটযুক্ত দুধ ঘন ও ঈষৎ হলদে বর্ণের হয়।

চামড়া:- চামড়া পাতলা হবে। চামড়ার নীচে চর্বির বাহুল্য থাকবে না। লোম মসৃন ও চকচকে হবে।

লেজ:- লেজ দেখেও ভাল জাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা যায়। ভালো জাতের গাভীর লেজ সবসময় লম্বা হয়। লেজের অগ্রভাগের চুলের গুচ্ছও বড় হয়।

বংশ:- বংশ ইতিহাস জেনেও দুধেল গাভীর বৈশিষ্ট্য যাচাই করা যায়। খনার বচনে আছে, ‘যেমন মা তেমন ছা’। তাই গাভীর মা-নানীর দুধ দেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করে নিতে পারলে উৎকৃষ্ট দুগ্ধবতী গাভী নির্বাচন ও মূল্যায়ন সহজ হয়।

উন্নত জাতের গাভী চেনার উপায়

উন্নত জাতের গাভী চেনার উপায়

  • ভালো জাতের গাভীর পেছনের দিক সামনের দিক অপেক্ষা প্রশস্ত হবে।
  • তাই উন্নত দুগ্ধবতী গাভীকে পেছনের দিক থেকে গোঁজ আকৃতি দেখায়।
  • প্রশস্ত চওড়া পাছা ও পেছনের পা দুটির মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক থাকবে।
  • পেছনের পা দুটির মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁক থাকলে ওলান বড় হওয়ার সুযোগ থাকে।
বেশি দুধের গাভী চেনার উপায়

সাধারণত পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদনকারী গাভী উৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অনেক গাভী দুধ বেশি দিলেও দুধ পাতলা হয় এবং ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ কম থাকে। সুতরাং দুধে ফ্যাটের পরিমাণ যাচাই করে গাভীর উৎকৃষ্টতা বিচার করা প্রয়োজন। স্বাভাবিক ফ্যাটযুক্ত দুধ ঘন ও ঈষৎ হলদে বর্ণের হয়ে থাকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- ডেইরি খামার লাভজনক করতে চাইলে উন্নত মান ও জাতের গাভী নির্বাচন সর্ব অপেক্ষা গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ খামারির সাহায্য নিতে হবে। কাজটি যদিও যথেষ্ট ধৈর্য ও পরিশ্রমের, তারপরও করতে পারলে লোকসান তো হবেই না বরং আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য মাত্রায় পৌছাতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।

♠♠ আপনার কৃষি সম্পর্কে কিছু বলার বা জানার থাকলে, আপনি আমাদের ফেজবুক পেজ বা ফেজবুক গ্রুপে যোগ দিতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজনীয় মতামত জানাতে পারেন।

♦♥ তথ্যটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ♥♦

🚻  ✔✔ এগ্রো হ্যাভেন বিডি ফেসবুক পাতা 
🚻  ✔✔ Agro Haven BD ফেসবুক গ্রুপে
🚻  ✔✔ আমাদের মেইল করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.